
Allergy & Sexually Transmitted Diseases (STD)
Allergy & Sexually Transmitted Diseases (STD)
যৌনবাহিত রোগ বা এসটিডি (STD – Sexually Transmitted Disease), যা যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI – Sexually Transmitted Infection) হিসেবেও পরিচিত, হলো এমন রোগ যা সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়। এই রোগগুলি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট হয়। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, যার ফলে চিকিৎসায় দেরি হতে পারে।
বাংলাদেশে সাধারণ যৌনবাহিত রোগসমূহ (Common STDs in Bangladesh)বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের যৌনবাহিত রোগ দেখা যায়। গবেষণা অনুসারে, দেশে শনাক্ত হওয়া সাধারণ কিছু এসটিআই হলো:
- গনোরিয়া (Gonorrhea) বা বিষমেহ: এটি Neisseria gonorrhoeae নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট এবং যোনি, পায়ু বা মৌখিক যৌনতার মাধ্যমে ছড়ায়। এর ফলে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা এবং অস্বাভাবিক স্রাব হতে পারে।
- সিফিলিস (Syphilis) বা ফিরিঙ্গি রোগ: এটি Treponema pallidum নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। চিকিত্সা না করা হলে এটি বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসর হয় এবং গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে স্নায়বিক সমস্যাও অন্তর্ভুক্ত।
- ক্ল্যামাইডিয়া (Chlamydia): এটি Chlamydia trachomatis দ্বারা সৃষ্ট। প্রায়শই এই রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না, তবে এটি পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID), বন্ধ্যাত্ব বা একটোপিক গর্ভাবস্থার মতো জটিলতার কারণ হতে পারে।
- জেনিটাল হার্পিস (Genital Herpes): এটি হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV) টাইপ ২ বা টাইপ ১ দ্বারা সৃষ্ট। এর ফলে যৌনাঙ্গে বা মুখে ঘা বা ফোসকা দেখা দিতে পারে।
- জেনিটাল ওয়ার্টস (Genital Warts): এটি হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) দ্বারা সৃষ্ট। এই ভাইরাস সার্ভিকাল এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
- ট্রাইকোমোনিয়াসিস (Trichomoniasis): এটি Trichomonas vaginalis নামক একটি পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট। এর ফলে যৌনাঙ্গে চুলকানি, অস্বাভাবিক স্রাব এবং প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি হতে পারে।
- এইচআইভি/এইডস (HIV/AIDS): হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং অবশেষে এইডসে রূপ নেয়।
- হেপাটাইটিস বি এবং সি (Hepatitis B & C): এই ভাইরাসগুলো লিভারকে প্রভাবিত করে এবং দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগ, সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ (Treatment and Prevention)
এসটিডি-র চিকিৎসা সংক্রমণের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের জন্য সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে রোগ পরিচালনা করার জন্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয় (সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নাও হতে পারে)।
প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো নিরাপদ যৌন আচরণ অনুশীলন করা:
- কনডম ব্যবহার: সঠিক ও ধারাবাহিক কনডম ব্যবহার এসটিডি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
- নিয়মিত পরীক্ষা: নিয়মিত এসটিডি পরীক্ষা করা এবং নতুন সঙ্গীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ.
- টিকাদান: কিছু এসটিডি, যেমন এইচপিভি এবং হেপাটাইটিস বি-এর বিরুদ্ধে টিকা পাওয়া যায়, যা কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে পারে.
আপনি যদি এসটিডি-র কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ অনুভব করেন, তবে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞ চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে এসটিডি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জাতীয় নির্দেশিকা এখানে পাওয়া যেতে পারে।
এই তথ্যগুলি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় একজন পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।